Ithelpbd.com is Bangla Online Tech Community website.

সাবধান আপনার কম্পিউটারকেও Ransomware ভাইরাসটি আক্রমণ করতে পারে। যার ফলে আপানাকে গুনতে হবে ৩০০ ডলার!!

127 views
if you like please share this postShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0

কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভালই আছেন। এখন আমাদের ভাল থাকা না  থাকাটা নির্ভর করে আমাদের কম্পিউটার ভাল আছে কিনা তার উপর। যদি কম্পিউটারের কিছু হয় তাইলে তো কথাই নেই মুড এর বারটা কি তেরটা পর্যন্ত বেজে যায় তাই আমরা সবসময় চেষ্টা করি যাতে আমাদের কম্পিউটারটি সবসময় ঠিকভাবে থাকে। কিন্তু অনেক সতর্কতার পরেও ভাইরাস ম্যালওয়ার আক্রমণ করেই থাকে। আমারা কম্পিউটার ভাইরাস বলতে বুঝি এমন সব প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের সাধারন কাজগুলোকে ঠিকভাবে করতে দেয় না। ইউজার এর বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়। কিন্তু আজকে আমি নতুন ধরনের ম্যালওয়ার নিয়ে কথা বলব।

যারা ফেসবুক বা বিভিন্ন টেক ফোরামগুলোতে খোজ খবর রাখেন তারা হয়ত বুঝতে পারছেন আমি কি নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি। হা আমি Ransomware নিয়েই কথা বলব।

Ransomware কি?

Ransom অর্থ মুক্তিপণ। আরে ware হল ম্যালওয়ার এর ware, এর থেকেই বুঝাই যায় যে যে ম্যালওয়ার কোন কিছুর জন্য মুক্তিপণ চায় সেইগুলাই Ransomware

Ransomeware যদি আপনার কম্পিউটারকে আক্রমণ করে তবে আপনার কম্পিউটার এর যত ফাইল আছে সেইগুলোকে সে এনক্রিপ্ট করে ফেলবে অর্থাৎ আপনি আর সেই ফাইলেগুলকে অ্যাক্সেস করতে পারবেন। যদি অ্যাক্সেস করতে চান তবে আপনার দরকার হবে এর ডিক্রিপশন কী। আর এই কী এর জন্য আপনাকে এই ম্যালওয়ার নির্মাতাকে টাকা দিতে হবে।

গত কয়েকদিনে সারা পৃথিবীতে ৯৯টি দেশে প্রায় ৭৫০০০ কম্পিউটারকে Wana Cry 2.0 নামে একটি Ransomware আক্রমণ করে। ফলে তাদের সব ফাইল এনক্রিপ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে অনেও গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটারও ছিল। যেমন হসপিটালের কম্পিউটার। আর সেইগুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল থাকে। যেইগুলা একটি হসপিটালের জন্য খুব দরকারি।Wana Cry 2.0 যদি আপনার কম্পিউটারকে আক্রমণ করে তাহলে নিচের ছবির মত একতা উইন্ডো দেখতে পাবেন।

যদি এরকম উইন্ডো দেখেন তাহলে বুঝবেন যে আপনার সব পার্সোনাল ফাইল শেষ। ফাইলগুলোকে ফেরত পেতে হলে আপনাকে ৩০০ ইউ.এস.ডি দিতে হবে। আর আমাদের দেশে কার পক্ষে এত টাকা দেয়া অতটা সহজ নয়। আর আপনাকে এই টাকা দিতে হবে বিটকয়েন এর মাদ্ধমে। তাই আপনি যে কাকে টাকা দিচ্ছেন সেটা আপনি জানবেনই না। যারা বিটকয়েন সম্পর্কে জানেন না তারা একটু গুগল এ খোজ করলেই পেয়ে যাবেন।আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময় দেয়া হবে সেই সময়ের মধ্যে আপনাকে টাকা দিতে হবে।

যদি আপনার কাউন্টডাউন শূন্য হয়ে যায় তাহলে তাদের কথা মত আপনি ফাইলগুলোকে আর ফেরত পাবেন না।তবে যদি আপনার কম্পিউটার এ খুব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল থাকে তাহলে আপনার সামনে একতাই পথ। টাকা দিতে হবে।আর যদি নরমাল ডাটা হয় তাহলে পুরো কম্পিউটার এর হার্ড ডিস্ক ফরম্যাট করে নতুন করে উইন্ডোজ ইন্সটল দিবেন তাহলেই হবে আর এই ভাইরাস আক্রমণ করার সাথে সাথে ইন্টারনেট বন্ধ করে ফেলতে হব এবং ভুলেও কোন পেনড্রাইভ বা হার্ড ডিস্ক কম্পিউটার এর সাথে লাগাবেন না।

জরুরি ফাইল ব্যাকআপ রাখুন 

র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ হলে সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়তে হয় কম্পিউটারের থাকা জরুরি ফাইল, ছবি ও ভিডিও নিয়ে। কথায় আছে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো’ তাই র‍্যানসমওয়্যার আক্রান্তের আগেই কম্পিউটারের যাবতীয় ফাইল ব্যাকআপ রাখা উচিত। এক্ষেত্রে ব্যাকআপ এমন ডিভাইস রাখতে হবে যেন সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পোর্টবেল হার্ডড্রাইভে ব্যাকআপ রাখা।

ই-মেইল ব্যবহারে সর্তকতা 
বেশিরভাগ র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ মেইলের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। হ্যাকাররা সুন্দর এবং আকর্ষনীয় মেইল ক্ষতিগ্রস্তদের পাঠায়। মেইলগুলোর বিষয়স্তু এমনভাবে লেখা, যা দেখে মনে হয় সত্যিকারের কোনো মেইল। সেখানে থাকা কোনো লিঙ্কে ক্লিক বা ফাইল ডাউনলোড করলেই কম্পিউটারের র‍্যানসমওয়্যার ইন্সটল হয়ে যায় ব্যবহারকারীদের অজান্তে। তাই ই-মেইল বার্তা আসলে তা ভালো করে যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে মেইল আসা কোনো লিঙ্কে ক্লিক এবং ফাইল ডাউনলোডের সময় আরও বেশি সর্তক থাকতে হবে। মেইল যাচাই করে দেখতে হবে তা স্প্যামিং বা ভুয়া।

অপারেটিং সিস্টেম আপডেট
অপারেটিং সিস্টেম নিমার্তা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিমুহূর্তে নানা নিরাপত্তামূলক আপডেট দিয়ে থাকে। ফলে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। তাই সব সময় কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখতে হবে। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা Settings গিয়ে System মেনুতে গিয়ে About এ ক্লিক করলে দেখে নিতে পারবেন নতুন আপডেটের বিষয়গুলো।

ব্রাউজিংয়ে সময় সর্তক থাকা
ইন্টারনেটের এই যুগে আমাদের প্রতিনিয়ত নানা ওয়েবসাইট ব্রাউজার করতে হয়। তাই লোভনীয় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফাঁদ পেতে বসে আছে হ্যাকাররা। ধরুণ আপনি কোনো গান বা ভিডিও ডাউনলোড করতে গুগলের সার্চ করলেন। তারপর একটি ওয়েবসাইটে গেলেন সেখানে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করলেন। সাথে সাথে ডাউনলোড শুরু হলো। এরপর দেখা গেলো এটি আপনার খোঁজা গান বা ফাইলটি নয়। হ্যাকাররা একই নাম ও ছবির আড়াঁলে র‍্যানসমওয়্যার সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটার ইন্সটল করিয়ে নিলো। তাই ব্রাউজিং ও কোনো কিছু ডাউনলোডে সর্তক থাকতে হবে।

সফটওয়্যার থেকে সাবধান
নতুন কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার সময় সতর্ক থাকা খুবই জরুরি। কেননা কাঙ্খিত ইন্টারনেট সফটওয়্যারটির আড়ালে ক্ষতিকারক র‍্যানসমওয়্যার থাকতে পারে। এগুলো ভুলক্রমে ডাউনলোড করলে হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারেন। তাই কম্পিউটারে কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হলে সফটওয়্যারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা উচিত।

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার
কম্পিউটারের আপডেট অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা উচিত। অ্যান্টিভাইরাস কোনো ফাইল কম্পিউটারে প্রবেশ করলে তা চেক করে। যদি তাতে ক্ষতিকর কিছু থাকে তাহলে তা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানায়। তাই অ্যান্টিভাইরাস কম্পিউটারের ব্যবহার করা উচিত ফলে র‍্যানসমওয়্যার কম্পিউটারে প্রবেশ করা মাত্রই নোটিফিকেশন জেনে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

আপনার মন্তব্য আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূন । তাই আপনার মতামত দিন !!

if you like please share this postShare on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0