Ithelpbd.com is Bangla Online Tech Community website.

ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন এবং SEO এর ভূমিকা

147 views
if you like please share this postShare on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন এখন আর কোন অস্পষ্ট, প্রতারণামূলক বা অবিশ্বাস্য কোন ব্যাপার নয়, এটি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া। এটির সূচনা ঘটেছিল Google Adsense এর ধারণা দ্বারা। কিন্তু অচিরেই প্রমাণিত হয় যে এটি আসলে সুনিশ্চিত এবং সহজ কোন প্রক্রিয়া নয় যার সফলতা একশ ভাগ সুনিশ্চিত। মূলত ইন্টারনেট থেকে অর্থ উপার্জন যে করা সম্ভব সেই ধারণার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ ছিল এটি। অচিরেই দেখা যায় ইন্টারনেটে গুগল অ্যাডসেন্স ছাড়াও সত্যিকার নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করা সম্ভব যা কারো একমাত্র পেশা হিসেবেও গণ্য হতে পারে। ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন সম্ভব কি সম্ভব নয় এটি নিয়ে বিভ্রান্তি এদেশেও আছে। আর তাই সর্বসাধারণের কাছে এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য এই টিউটোরিয়ালে সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন ব্যাপারটির মূল ভিত্তি কি এবং কেন এটি সত্যিকার একটি পেশা হিসেবে যে কারও জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

 

আউটসোর্সিং এবং ফ্রীল্যান্সিং :

ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আয় তথা অনলাইন এ আয়। যে যেভাবে বলি না কেন, তার অর্থ দাঁড়ায় একটাই- নতুন একটা আয়ের ক্ষেত্র, নতুন পেশা ইত্যাদি। যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা খুবই নতুন একটা ধারণা। কেননা, এ দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শুধু মাত্র শহরে বসবাস করে এমন মানুষ-জন। দিন দিন অবশ্য এই অবস্থা পালটাচ্ছে। যাই হোক, আউটসোর্সিং হচ্ছে মূলত কারো অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে শুধুমাত্র একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ এর মাধ্যমে নিজ দক্ষতা প্রয়োগ করে অপর কোন ব্যক্তি বা কোম্পানীর কাজ সম্পন্ন করে অর্থ উপার্জন করা। যেমন- যে কেউ বাংলাদেশের যে কোন স্থান থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

 

বেকারত্ব দূরীকরণে আউটসোর্সিং :

২০২১ সালের মধ্যে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেকার মুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া। প্রযুক্তির কাধে ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী আর এই গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য চলছে নানা রকম প্রক্রিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ দিনের নিরলস শ্রমের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেকার সমস্যা দুর করার বাস্তব সম্মত প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে- যার নাম “Online Earning Program”। আমরা আমাদের অনেক মূল্যবান সময় অযথাই ব্যয় করি। অথচ এ সময়টিকে যদি অনলাইনে অর্থপূর্ন উদ্দেশ্যে কাজে লাগাতে পারি, তবে নিজেদের যেমন একটি ভাল অংকের অর্থের সংস্থান হয়, সেই সাথে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারি। দিনে যদি আমরা নিয়মিত ৩-৪ ঘণ্টা অনলাইনে সময় দিতে পারি, তাহলে খুব সহজেই মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ U.S ডলার আয় করা সম্ভব।

 

অনলাইন থেকে আয়ের মূল মাধ্যম গুলো হল :

পি.পি.সি (Pay Per Click- যেমন: অ্যাডসেন্স, অ্যাড ব্রাইট, বিডভার্টাইজার ইত্যাদি), এফিলিয়েট মার্কেটিং, রিভিউ ও ব্লগ লেখা, ডোমেইন পার্কিং, সাইট ফ্লিপিং, পি.টি.সি (Paid to Click), গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি সার্ভে, রেফারাল বিজনেস, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) ইত্যাদি।

 

আউটসোর্সিং এবং বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট :

আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে বাংলাদেশ এখন সম্মানজনক একটি অবস্থানে অবস্থান করছে। এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পেছনের মানুষগুলোকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট কানেকশন আর লোডশেডিং এর মত বড় বড় বাধার সাথে পাল্লা দিয়ে যাদেরকে কাজ করতে হয়, তারাই জানেন আসলে কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে এই অবস্থানে আসতে। বাংলাদেশে এখনো আউটসোর্সিংকে পেশা হিসেবে নিতে সবাইকে দশবার ভাবতে হয়। কারণ, পেশা হিসেবে এখনো তেমন সম্মান দেয়া হয়না আউটসোর্সার/ফ্রীল্যান্সারদেরকে। একজন ইঞ্জিনিয়ার কোন একটি প্রাইভেট ফার্মে ছোটখাট একটা জব করলেও তিনি গর্ব করে তা বলতে পারেন, কিন্তু যখন তিনি একজন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন, তখন তাকে সেটা বলতে ইতস্তত বোধ করতে হয়। আসল কারণ হলো তার কাজ বা কাজের প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। এই সব শ্রেণীর মানুষের না বোঝার দায় কিন্তু পরোক্ষভাবে ফ্রীল্যান্সার/আউসোর্সারদের ঘাড়েই পড়ে। আর সাধারণ মানুষের নিকট বোধগম্য করে তোলার দায়িত্ব এই ফ্রীল্যান্সারদেরই।

এটি আমাদের জন্য অবশ্যই খুশির সংবাদ যে, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার আমাদের দেশের তরুণদেরকে আইটি সেক্টরে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ করে বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বিনমূল্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় এক মাস থেকে শুরু করে তিন মাস মেয়াদী বিভিন্ন আউটসোর্সিং কোর্স চালু করেছে। শুধু তাই নয়, কোর্স শেষে মাসিক ৩২০০ টাকা বৃত্তি (এককালীন) এবং সার্টিফিকেট প্রদান করবে। কোর্সগুলো BITM (BASIS Institute of Technonlogy & Management) এর থেকে করা যাবে।

 

অনলাইনে কাজ :

অনলাইনে রয়েছে বিভিন্ন কাজের সুযোগ। আউটসোর্সিং করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বি। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো শিখতে হবে। অনলাইন থেকে ভালো একটা আয় করতে আপনাকে প্রাথমিক পর্যায়ে ভেবে নিতে হবে যে, কোন দিকে আপনি আপনার ক্যারিয়ারটাকে এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন। আর তাই পছন্দসই কোন একটি কাজ শিখে ফেলুন। মনে রাখবেন, অনলাইনে কাজ সবার জন্য। আপনি যে কোন দক্ষতা ভিত্তিক কাজ অনলাইনে করতে পারবেন। তবে সাবধান থাকবেন, যারা ব্যানারে বা বিভিন্ন লিফলেটে বিজ্ঞাপন দেয় যে “সহজে ঘরে বসে প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করুন”। আসলে সহজে টাকা উপার্জনের কোন রাস্তা নাই, টাকা উপার্জন করতে হলে আপনাকে কষ্ট করে কাজ করেই উপার্জন করতে হবে।

 

আউটসোর্সিং এর নামে প্রতারণা :

দুঃখজনক বিষয় হল- আউটসোর্সিং সম্পর্কে মানুষের সঠিক ধারণা না থাকার কারণে খুব সহসাই তারা বিভিন্ন ধোকায় পড়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-
* এম.এল.এম টাইপের কোম্পানী
* পি.টি.সি টাইপের কোম্পানী এবং
* ইন্টারনেট ফ্রড।

অনলাইনে কিছু সাইট আছে যারা E-Mail, Sign Up, Ad view and Click ইত্যাদি করার কারণে হাজার হাজার ডলার, ইউরো দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আসলে এগুলো মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কৌশল মাত্র। রাতারাতি বড়লোক হবার স্বপ্ন দেখিয়ে ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানী কোটি কোটি টাকা বেকার যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে পাগার-পাড়। অনলাইনে আয় করবেন শুধুমাত্র আপনার কাজের বিনিময়ে। কোন বিনিয়োগ ছাড়াই দক্ষতা অনুসারে আপনি অর্থ আয় করতে পারেন। এখানে আপনাকে অপরের উপর নির্ভর হতে হবে না।

 

আজকের টিউটোরিয়াল এই পর্যন্তই। টিউটোরিয়ালটি যদি আপনাদের কোন কাজে আসে তবেই আমার কষ্ট স্বার্থক। পরবর্তী টিউটোরিয়াল থেকে আমাদের এস.ই.ও এর ধারাবাহিক লেকচার পোস্ট করা হবে, সবাইকে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি- আসসালামু আলাইকুম।

আপনার মন্তব্য আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূন । তাই আপনার মতামত দিন !!

if you like please share this postShare on Facebook
Facebook
0Share on Google+
Google+
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin