Ithelpbd.com is Bangla Online Tech Community website.

তথ্যপ্রযুক্তিতে ২৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম !!!

268 views

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী এশীয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। এশিয়াতে র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর।

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী এশীয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৯তম। এশিয়াতে র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর। আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে (আইডিআই) গড় স্কোর যেখানে ৪ দশমিক ৫৭, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সে স্কোর ১ দশমিক ৯৭। এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নসূচক বিষয়ক আইটিইউ-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৬৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দেখানো হয়েছে ১৪৫ তম। তবে আগের বছরের তুলনায় মাত্র এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

আইটিইউ-এর ‘মেজারিং দি ইনফরমেশন সোসাইটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির আগ্রগতি নিয়ে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী বা উপদেষ্টাগণ যেভাবে বড়াই করছেন আসলে অর্জন সে হিসাবে খুবই সামান্য। এ বিষয়টি খুবই স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অর্জন এক পা এগোলে, দু পা পিছিয়ে যায়। সরকারের উদ্যোগেই ২০০৭ সালে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন বা (এটুআই) প্রকল্পের ডামাডোলের মধ্যদিয়ে শুরুটা হয়েছিল ভালোই। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, ই-বুক, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ইন্টারনেট সেবার বিস্তৃতি সবশেষ থ্রিজি মোবাইল সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। এসব সত্ত্বেও ব্যক্তিখাতে ব্যবহার, সেবার দক্ষতা, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল কনটেন্টের সহজলভ্যতা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ- এসবের অভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতটি অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত অবদান রাখতে পারছে না বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

আইটিইউ বলছে, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও সেবা পৌঁছে দেয়ার নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলই কাংখিত মাত্রায় ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে না। গত কয়েক বছরে ব্যান্ডউইডথের মূল্য কমেছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে ডাটাভিত্তিক থ্রিজি প্রযুক্তি। তা সত্ত্বেও ‘মেজারিং দি ইনফরমেশন সোসাইটি’ শীর্ষক আইটিইউ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ব্রডব্যান্ড সেবা নিশ্চিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যেও অনেকখানি পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মাত্র ৫ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। অন্যদিকে এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডের শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সেবা রয়েছে। একই অবস্থা মঙ্গোলিয়াতেও। স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে, এমনকি ভুটানেরও ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক অনেক বেশি, যা ৪৩ শতাংশ। মাথাপিছু তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আইটিইউর প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের মাত্র ৫ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। একই কাতারে আছে আফগানিস্তান ও মিয়ানমার। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ায় এ হার ৯৮ শতাংশ এবং জাপান, সিঙ্গাপুর ও চীনে ৮৩-৮৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ছাড়া অন্যদের চেয়ে এখনো সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলংকা। তালিকায় ভুটান ১২৩, ভারত ১২৯, নেপাল ১৩১, পাকিস্তান ১৪২ ও আফগানিস্তান ১৫৫তম স্থানে রয়েছে। অবস্থানের উন্নয়ন হয়েছে ভুটান ও নেপালের আর অপরিবর্তিত রয়েছে ভারতের। শ্রীলংকার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও অবস্থানের অবনতি ঘটেছে। বাংলাদেশে সরকারি কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যে প্রত্যাশিত মাত্রার নয়, তাও ফুটে উঠেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগ পরিচালিত ‘ই-গভর্মেন্ট সার্ভে ২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের ই-গভর্মেন্ট ইনডেক্সে (ইজিডিআই) ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৮তম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে দুই ধাপ।

সম্প্রতি এ বিষয়ে বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান লিখেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ খাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে সরকার দাবি করে থাকলেও এখনও অনেক দিক দিয়েই উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। আইটিইউ-এর প্রতিবেদনে ১৬৬ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের ১৪৫ তম অবস্থানই সেই পিছিয়ে থাকাকে স্পষ্ট করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য তিনি কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছেন। নিম্নে সেটি দেওয়া হলো –

ইন্টারনেট সেবায় বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে সুপারিশ
বাংলাদেশের মতো গরিব দেশে মোবাইল ইন্টারনেটই সহজলভ্য বলে উল্লেখ করা হয় বিশ্লেষণে। টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যকর পদক্ষেপ এমন অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে নির্দিষ্ট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বিল ১০ শতাংশ এবং মোবাইল ইন্টারনেট বিল ৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক রেগুলেটরি বাংলাদেশের জন্য একটি গাইডলাইন হতে পারে বলেও জানান তিনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটু উচ্চবিত্তরাই এই সার্ভিস ব্যবহার করে।

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় সেই হার বাংলাদেশে মাত্র ৫ শতাংশ। প্রতিবেশী দেশগুলো এই খাতে অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। তাই তারা পারলে আমরা কেন পারব না বলে প্রশ্ন রাখেন শহীদুজ্জামান খান। আইটিইউ রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০০ কোটি। আর এর দুই-তৃতীয়াংশই উন্নত দেশগুলোর। এর মধ্যে মোবাইল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাই ২.৩ বিলিয়ন, এর ৫৫ শতাংশও উন্নত দেশের। তাই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুসারেই এর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা উচিত বলে মনে করেন শহীদুজ্জামান।

২০১৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের ৪৪ শতাংশ বাড়িতে ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। এর ৭৮ শতাংশই উন্নত দেশে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এ সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশ সরকার দাবি করে তারা তরুণ প্রজন্মকে এমনভাবে তৈরি করেছে যে তারা প্রযু্ক্তিগত যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে পারবে। যদি এটা সত্য হয়ে থাকে তবে ছোট থেকেই তাদের তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে বলে মনে করেন শহীদুজ্জামান। তিনি বলেন, এতে করে তারা ভবিষ্যতে পারদর্শী হয়ে উঠবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। সবশেষে শহীদু্জ্জামান খান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের দ্রুত উন্নতি ঘটাতে হবে কারণ এতে করেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব।

Loading...

আপনাদের মতামত আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ন । তাই প্লিজ আপনার মতামত কমেন্ট করুন, ধন্যবাদ !!!

avatar
  Subscribe  
Notify of