Ithelpbd.com is Bangla Online Tech Community website.

গেইম খেলেই কাটিয়ে দিলেন ৭ বছর

232 views

গেইমিংয়ে আসক্ত হলে অনেকেই ঘরকুনো স্বভাবের হয়ে যান। তাই বলে এক ঘরেই সাত বছর!

গেইমার বিলি ব্রাউনও এ দলের একজন। শুধু গেইম খেলেই পার করেছেন সাত বছর। এ সময়ের মধ্যে নিজের বাসা থেকে বের হয়েছেন ১০ বারেরও কম।

২৪ বছর বয়সী এ তরুণ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। জঙ্গিবাদ ও সাইবার ক্রাইমের খপ্পরেও পড়েছিলেন। সেসব অবশ্য এখন অতীত।

গেইম আসক্তি ও অন্ধকার জগতের হাতছানি এড়িয়ে নিজেকে এখন সমাজ সেবায় নিয়োজিত করেছেন তিনি। নিজে যে সমস্যার মধ্যে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন সেগুলো থেকে অন্য তরুণদের দূর সরিয়ে রাখতে কাজ করছেন এক সময়ের এ পাড় গেইমার।

নিজের সমস্যা থেকে কীভাবে উদ্ধার পেলেন সে কাহিনী বিলি ব্রাউন শুনিয়েছেন বিবিসিকে।

ধ্যানজ্ঞান ছিল গেইমে

সাধারণত গেইমিংয়ে আসক্ত তরুণরা সারাক্ষণ গেইমের জগতে পড়ে থাকতে পছন্দ করেন। বিলি ব্রাউন বিষয়টিকে অন্য একটি পর্যায়ে নিয়ে যান। সাত বছরে হাতে গোনা ১০ বারেরও কম তিনি নিজের ঘর থেকে বের হন।

প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক বিলির জীবনে গেইমের বাইরের জগত বলতে ছিল শুধু মায়ের খেয়াল রাখা। ঘরের বাইরে এসেছেন কেবল চিকিৎসক দেখানোর জন্য।

লেখাপড়ায় অনীহা

লেখাপড়ায় অনীহা থেকেই নিজেকে গুটিয়ে ফেলা শুরু করেন। এরপর পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেলে অনেক দিন বাসায় থাকতে হয়। এ সময় গেইমিং করেই তার অবসর কাটে। মূলত সেখান থেকেই আসক্তির জন্ম।

এরপর কেটে যায় সাত বছর। এই সাত বছরে ব্রাউন শুধু গেইম খেলেছেন এবং রাজনীতি নিয়ে লেখাপড়া করেছেন।

ইন্টারনেট আসক্তি থেকেও জঙ্গিবাদ ও সাইবার ক্রাইমের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন এ যুবক। আত্মহত্যারও চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে এসে জীবনের কোনো মানে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি।

পুনবার্সন

নিজেকে ফিরে পাওয়ার সংগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার রিহ্যাব প্রোগ্রামে যোগ দেন। শুরু হয় নিজেকে বদলের সংগ্রাম। বিগত ১৪ মাসে তার উন্নতি হয়েছে চোখে পড়ার মতো। একই সঙ্গে সহায়তা করছেন অন্যান্যদেরও।

গেইম উদ্ভাবন

ব্রাউন মনে করেন, সামাজিকীকরণের মূল অন্তরায় হচ্ছে মানুষের মুখোমুখি যোগাযোগ কমে যাওয়া। এ যোগাযোগ বাড়াতে তিনি একটি বোর্ড গেইমের উদ্ভাবন করেন।

গেইমটি কয়েকজন মিলে একসঙ্গে খেলা যায়। খেলার সঙ্গীরা একে অপরের সঙ্গে সপ্তাহে একবার করে খেলেন। যার ফলে সামাজ বিচ্ছিন্ন তরুণদের সামাজিক দক্ষতা বাড়ছে।

ক্রিস্টি অ্যাটকিনসন গেইম থেরাপিতে অংশ নেওয়া একজন তরুণী মনে করেন, এ পদ্ধতি অনেক মজার এবং নিশ্চিতভাবেই এ পদ্ধতিতে একাকীত্বের ঘেরাটোপে থাকা তরুণ তরুণীদেরকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মেলানো সম্ভব হবে।

আপনাদের মতামত আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ন । তাই প্লিজ আপনার মতামত কমেন্ট করুন, ধন্যবাদ !!!

avatar
  Subscribe  
Notify of