Ithelpbd.com is Bangla Online Tech Community website.

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর নেশার নাম হচ্ছে ইন্টারনেটে আসক্তি?

211 views

এখনকার যুগে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা সম্ভব নয়।

কিন্তু তা যদি স্বাভাবিক কাজকর্মে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তাহলে অবশ্যই ব্যবহারকারীকে সতর্ক হতে হবে। সময় যতো গড়াচ্ছে ইন্টারনেটের প্রতি আমাদের নির্ভরশীলতাও তত বাড়ছে।

কিন্তু আজ থেকে চার বছর আগে পরিস্থিতি এতোটা জটিল ছিলো না। সে সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত তরুণদের জন্য ভারতে ব্যাঙ্গালুরুর নিমহানস মানসিক হাসপাতালে ডা. মনোজ কুমার শর্মা চালু করেন ইন্টারনেট ডি-অ্যাডিকশন সেন্টার। সপ্তাহে তখন একজন রোগীরও দেখা মিলতো না।

তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় জন রোগী সেখানে যাচ্ছেন আসক্তি ছাড়াতে। অতিরিক্ত আসক্ত রোগীকে  ২১ দিনের জন্য রিহ্যাবেও পাঠানো হচ্ছে বলে জানালেন ডা. শর্মা।

তার কাছে আসা বেশির ভাগ রোগীর বয়স ১৬ থেকে ২০ বছর। তাদের প্রত্যেকের বাবা মাই দামি স্মার্টফোন বা গেইমিং কনসোল কেনার সামর্থ্য রাখেন।

ইন্টারনেটের প্রতি তাদের আসক্ত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে খেলার মাঠের স্বল্পতাও যেমন একটি কারণ তেমনি কর্মজীবী বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়াও একটি প্রধান কারণ।

ডা. শর্মার মতে, যদি কেউ দিনে পাঁচশ’টি সেলফি তোলে তাহলে বুঝতে হবে তার মধ্যে উদ্বিগ্নতা কাজ করছে। ইন্টারনেটে জনপ্রিয়তা পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই উদ্বিগ্নতা তৈরি হয়। এর কারণেই বার বার সেলফি তোলার প্রবণতা দেখা দেয়।

selfie-techshohor

অনলাইনে থাকার জন্য কাজে ফাঁকি দেওয়া বা ক্লাস না করা, কথা বলার সময় অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির দিকে না তাকিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে কথা বলা এসবই আসক্তির লক্ষণ।

এগুলোর পেছনে ডা. শর্মা চারটি বিষয় শনাক্ত করেছেন এগুলো হলো তীব্র আকাঙ্ক্ষা, নিয়ন্ত্রণ, বাধ্য করা ও ফলাফল। তিনি বলেন, কম বয়সী রোগীদের কাউন্সিলিং করার সময় তাদের অভিভাবকদেরকে পাশে রাখা হয়। তারা কি বলতে চায় আমরা তা শুনে নেই। বৃহৎ পরিসরে আসক্তিজনিত আচরণ হচ্ছে অন্য কোনো কিছুর লক্ষণ।

ইন্টারনেটের ওপরে শিশু বা তরুণদের নির্ভরশীলতা তৈরি হয় শূন্যতা থেকে। জীবনের শূন্য স্থানগুলো ভরাট করতেই তাদের মধ্যে অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা দেখা দেয়।

ডা. শর্মা আরও জানান, ইন্টারনেটের সঙ্গে মাদকাসক্তির পার্থক্য রয়েছে। আমরা প্রতিদিনই ইন্টারনেট ব্যবহার করি। হোয়াটসঅ্যাপে বা ফেইসবুকে আমরা সবাই আছি। কাজের জন্য আপনাকে ইমেইল চেক করতেই হবে। ফোন আমাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তাই রোগীকে এগুলোর ব্যবহার ছাড়তে বলাটা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।

গত চার বছরে তার ক্লিনিকে ২৫০ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলিংয়ে রোগীকে প্রযুক্তি ব্যবহারের সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদেরকে বিভিন্ন শখের জিনিস নিয়ে সময় কাটাতে উৎসাহিত করা হয়। আশেপাশে থাকা বাস্তব দুনিয়ার মানুষের সঙ্গে মিশতে বলা হয়।

গ্যাজেটস নাউ অবলম্বনে আনিকা জীনাত

আপনাদের মতামত আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ন । তাই প্লিজ আপনার মতামত কমেন্ট করুন, ধন্যবাদ !!!

avatar
  Subscribe  
Notify of